×

Error

Cannot get "Dhaka" woeid in module "mod_sp_weather".

Cannot retrive forecast data in module "mod_sp_weather".

Super User

Super User

সিরিয়ায় আইএসের প্রধান হ্যাকার সাইফুল হকের (সুজন) গড়া আইব্যাকস-এর ঢাকা কার্যালয়কে সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হতো। এই অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বিদেশ থেকে আসা ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকাও উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস-এ ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সাইফুল হক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে থাকা অবস্থায় বড় ধরনের অর্থ পাচারে যুক্ত ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যুক্ত ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ওই দেশ থেকে কয়েক লাখ পাউন্ড (ব্রিটিশ মুদ্রা) বাংলাদেশ হয়ে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত আইব্যাকস কার্যালয় এবং এর কর্মীদের ওপর নজর রাখতে শুরু করে। পরে ওই কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা সাইফুলের বাবা আবুল হাসনাত, ছোট ভাই হাসানুল হক ওরফে গালিব মাহমুদ, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও সাইফুলের শ্যালক তাজুল ইসলাম (শাকিল), হিসাবরক্ষক নাহিদ্দোজা মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ এনে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দিয়েছে পুলিশ (মামলা নং-২১, তারিখ- ০৯.১২.১৫)।
মামলায় বলা হয়, এঁরা সবাই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ ডিসেম্বর রাতে কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের পাশে বটতলা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় সাইফুল ও তাঁর বড় ভাই আতাউল হককেও (সবুজ) আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হাসনাত পুলিশকে বলেছেন, তাঁর দুই ছেলে সাইফুল হক ও আতাউল হক প্রবাসে থাকেন। তাঁরা বিদেশ থেকে মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আইব্যাকসের নাহিদ্দোজা মিয়ার কাছে অর্থ পাঠায় জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে থ্রিমা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
২০০৫ সালে সাইফুলের গড়া আইব্যাকস-এর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের বাইরে ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল। কার্ডিফে এর প্রধান কার্যালয়। ঢাকা ও জর্ডানে আলাদা অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত খাবারবিষয়ক বিভিন্ন পোর্টাল আর ভ্যাট-ট্যাক্স এবং জিপিএস-জিপিআরএস প্রযুক্তি সহায়ক অ্যাপস তৈরির কাজ করেছে।
সাইফুল ২০১৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পর তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী কার্ডিফে পুরো ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। আবদুস সামাদও একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। সিরিয়ায় বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার পরদিন আবদুস সামাদকে আটক করে যুক্তরাজ্য পুলিশ।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংগঠনগুলোর সমিতি বেসিসের সদস্যপদ (জি-২৮৭) নিয়ে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়েছে আইব্যাকস লিমিটেড। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন আতাউল হক। তিনি ছয়-সাত মাস আগে স্পেনে গেছেন বলে তাঁর ঢাকার বাসায় থাকা ছোট ভাই এহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেছেন।
সাইফুলের বাবা-ভাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত আইব্যাকস কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেখানকার একজন নিরাপত্তাকর্মী প্রথম আলোকে বলেন, গত মাসের শুরুর দিকে একদিন পুলিশ এসে তালা ভেঙে কার্যালয়টি তল্লাশি করে এবং কিছু সরঞ্জাম মামলার আলামত হিসেবে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ দরজায় একটি তালা মেরে যায়।
 আইব্যাকসের প্রতিষ্ঠাতা আইএসের প্রধান হ্যাকার সাইফুল হক
 যুক্তরাজ্য, ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রে আইব্যাকসের কার্যক্রম ছিল
 ১০ ডিসেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার দুদিন আগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন গ্রেপ্তার। ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা উদ্ধার

পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় জাতীয় পার্টিতে (জাপা) সৃষ্ট ঝড় নতুন মোড় নিয়েছে। স্ত্রী রওশনকে বশে রেখেই দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের কবজায় রাখতে চাইছেন দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি এখনই সরকারকে না চটানোর কৌশলও নিয়েছেন। জাপার দায়িত্বশীল একাধিক নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রংপুরে দুই দিনের অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় ফিরেই দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে অব্যাহতি দিয়েছেন এরশাদ। একই সঙ্গে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে আবার দলের মহাসচিব নিযুক্ত করেছেন। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ ঘোষণা দেন এরশাদ। একই সঙ্গে ভাই জি এম কাদেরকে জাপার কো-চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তও আবার জানান তিনি।
এরশাদ ও রওশনপন্থী তিনজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, জি এম কাদেরকে এরশাদের উত্তরসূরি ও দলের কো-চেয়ারম্যান করার ঘোষণার বিষয়ে রওশন এখন পর্যন্ত নিজে থেকে কোনো কথা বলেননি। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কিছুটা ‘কৌশলী’ বলে মনে করছেন নেতারা। কারণ, এরশাদ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব ঘোষণা দেওয়ার পর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে স্ত্রী রওশনের সভাপতিত্বে জাপার সংসদীয় দলের বৈঠকেও অংশ নেন।
সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাতে অটল আছি। মরার আগ পর্যন্ত অটল থাকব।’
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতেই এরশাদের কাছে রওশন জানতে চান, এতগুলো সিদ্ধান্ত তিনি একা নিলেন কেন? আলোচনা করে নিলেই ভালো হতো।
জবাবে এরশাদ বলেন, অতীতেও তিনি মহাসচিব পদে পরিবর্তন করেছেন। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছিলেন, হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তো গঠনতন্ত্রের কথা আসেনি। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সে ক্ষমতা আছে।
এ সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এরপরও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। জবাবে এরশাদ বলেন, দলকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাঁরা সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকের একপর্যায়ে রুহুল আমিন হাওলাদারসহ বেরিয়ে সংসদে নিজ কার্যালয়ে যান এরশাদ। এরপর জিয়াউদ্দিন বাবলুকে উদ্দেশ করে রওশন জানতে চান, সাংবাদিকদের ডেকে তাঁকে (রওশন) কেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলো? জবাবে বাবলু বলেন, আসলে মিডিয়া রং লাগিয়ে প্রচার করেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক ও মসিউর রহমান, সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ এ বলয়ের নেতারা এরশাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা এরশাদের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে চেষ্টা-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাতে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউদ্দিন বাবলু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আই এম ওয়ার্কিং (আমি কাজ করছি)। আজকেও আমি কাকরাইলে অফিস করেছি। সাড়ে ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত ছিলাম।’
গতকাল সংসদীয় দলের বৈঠকের পর জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা, মহাসচিব পদে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। প্রেসিডিয়াম ও সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যান আমাদের প্রস্তাব নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছেন।’ এ সময় জিয়াউদ্দিন বাবুল, মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাপা নেতা প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হকসহ কয়েকজন সাংসদ তাজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা জাপার সাংসদ শওকত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের তার উল্টো বলেছেন।
সন্ধ্যায় এরশাদসহ দলের প্রায় সব নেতা একসঙ্গে সংসদ ভবন থেকে বের হন। এ সময় সংসদের প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকেরা তাজুল ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরে এরশাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এরশাদ কিছু বলার আগেই পাশে দাঁড়ানো তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মিডিয়ায় আমার বক্তব্য ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি বলেছি, স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে সংসদীয় দল একমত হয় নাই। স্যার ও ম্যাডাম (রওশন) পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রত্যাখ্যানের কথা বলিনি।’
দুপুরে বনানীতে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলুর বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন, প্রায় দুই বছর জিয়াউদ্দিন বাবলু মহাসচিব ছিলেন। একটি বর্ধিত সভা, প্রেসিডিয়ামের সভা করতে পারেননি। ৪০টি কাউন্সিল মিটিং হয়েছে, একা করতে পারেননি, এই বয়সে সবখানে তাঁকে যেতে হয়েছে।
এরশাদ বলেন, ‘সর্বশেষ আমার ঘোষণার পর আমার নির্দেশ অমান্য করে পার্টিতে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বাবলু। দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁকে মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিলাম। আজ থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন রুহুল আমিন হাওলাদার।’
এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘রওশন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হননি, হতে পারেন না। বাবলু ঘোষণা দিয়েছে। বাবলু কে ঘোষণা দেওয়ার?’ তিনি দাবি করেন, ‘আমার স্ত্রী প্রেসিডিয়ামের কোনো বৈঠক ডাকেননি। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওনাকে দিয়ে তারা স্টেটমেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তিনি দেননি। আমি একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। দুজন নেতা সেটা নিয়ে বিভেদ-বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।’
জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার ঘোষণা রংপুরে দেওয়ার কারণ কী, জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ। সেখানে নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়েছি।’
জাপা ভাঙছে কি না, জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘অসম্ভব। নো বডি ক্যান ব্রেক ইট (কেউ একে ভাঙতে পারবে না)। যে দুজন (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু) দলে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছেন, তাঁদের সঙ্গে ১০ জন লোকও নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ ছাড়ছেন কি না— সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্মান দেখিয়েছেন। পার্টির প্রয়োজনে আমি ওনাকে অনুরোধ করব, আমাকে ছেড়ে দিন। সারা দেশ ঘুরে পার্টিকে অর্গানাইজ (সংগঠিত) করি। বিরোধের প্রয়োজন নেই।’
জাপায় ভাঙন
১৯৮৬ সাল
১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির (জাপা) আত্মপ্রকাশ। দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং মহাসচিব এম এ মতিন।

জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদের কর্তৃত্ব খর্ব হতে দেবে না সরকার। আবার দুই অংশের চলমান টানাপোড়েনে জাতীয় পার্টি ভেঙে যাক, তা-ও চায় না সরকার। তাই অতীতের মতো নানাভাবে চাপ দিয়ে দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে বাগে এনে সমঝোতার তৎপরতা চালানো হবে। সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এই প্রতিবেদক গতকাল মঙ্গলবার সরকারের দুজন মন্ত্রী, তিনজন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেন। তবে তাঁরা জাতীয় পার্টির বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে এবং নিজেদের দলীয় প্রধানের মনোভাব না জেনে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এই নেতারা বলেন, এরশাদ ও তাঁর ভাই জি এম কাদেরের হাতে জাপার কর্তৃত্ব পুরোপুরি চলে গেলে তাঁরা প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এরপর সংসদ বয়কটের মতো গুরুতর সিদ্ধান্তেও উপনীত হতে পারেন, যা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে।
ওই নেতারা জানান, সরকার নিশ্চিত হয়েছে, জি এম কাদেরকে জাপার কো-চেয়ারম্যান করাসহ এরশাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তিনি নিজের বুদ্ধিতে করছেন না। এর পেছনে কোনো শক্তি কাজ করছে। এটাতে সফল হতে পারলে এরশাদ আরও বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস পাবেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব অস্থিরতা জাতীয় পার্টিতে সব সময় থাকে। আমার মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে। আবার সবাই সমঝোতার মাধ্যমে এক জায়গায় চলে যাবে।’
আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সাংসদদের মধ্যে রওশনপন্থীর সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে দলের মধ্যম সারির নেতাদের বেশির ভাগই এরশাদের অনুসারী। তৃণমূলে দলটি চলে এরশাদের নামে। ফলে দুই শক্তির মধ্যে একটা ভারসাম্য আছে। প্রাথমিকভাবে উত্তেজনা থাকলেও দল ভাঙার সম্ভাবনা কম। কারণ, দল ভাঙলে লাভ-লোকসান কী, এটাই সঠিক সময় কি না—এই রাজনৈতিক হিসাব মেলাতে গেলে দুই পক্ষই পিছু হটবে।
আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতা বলেন, জাতীয় পার্টির চলমান ‘যুদ্ধে’ আওয়ামী লীগ এখনো রাজনৈতিকভাবে সরাসরি কোনো ভূমিকা নেয়নি। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তৎপরতা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা রওশন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা দলটির ভাঙন এড়াতে সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা মনোনয়ন বোর্ডের এক বৈঠক হয়। বোর্ডের একজন সদস্য জাতীয় পার্টির চলমান অস্থিরতার বিষয়টি তোলেন। দু-একজন নেতা এটাকে গণতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে মন্তব্য করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি বলে সূত্র জানায়।
সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, এরশাদ আনপ্রেডিক্টেবল (অননুমেয়)। তাই তাঁকে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিশ্বাস করে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে বেঁকে গিয়ে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলেন এরশাদ। এর পেছনে নানা শক্তির প্রভাব ছিল। তবে এবার জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করা এবং জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে ‘রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ’ ও প্রভাব রয়েছে বলে মনে হয়। এটা সরকার ও আওয়ামী লীগের জন্য ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ৫ জানুয়ারির আগের ভূমিকায় এরশাদের যে ক্ষতি হয়েছে, এবার নিশ্চয় তিনি ভাবনায় সেটা নিয়েই এগোবেন।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিপরীতমুখী অবস্থান ছিল। সরকার জাতীয় পার্টির নেতাদের মন্ত্রিসভায় রাখার পক্ষে। আবার দলে রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলুর কর্তৃত্ব বজায় রেখে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে গেলেও সরকার আপত্তি করবে না। সে ক্ষেত্রে জাপা পরিপূর্ণ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। কিন্তু এরশাদ-রওশন বিবাদে জাতীয় পার্টি ভেঙে গেলে খানিকটা বিপাকে পড়বে সরকার।
তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় পার্টিতে কয়েক দিন পরপরই নানা ঘটনা ঘটে। এটা নতুন কিছু নয়। এই নিয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের ভাবার সুযোগ নেই। তারা নিজেরা নিজেরাই সমঝোতায় চলে আসবে।

নানান রঙের বিয়ের পোশাক পরে বর-বউয়েরা হাঁটছেন র্যাম্পে—এমন দৃশ্য খুব বেশি দেখা যায় না। আর তাঁরা যদি হন দেশের জনপ্রিয়
মডেল ও অভিনয়শিল্পী, তবে তো কথাই নেই। এ রকম বর-বউদের গতকাল মঙ্গলবার দেখা গেল একসঙ্গে এক মঞ্চে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছিল বিয়ের পোশাকের ফ্যাশন শো। প্রথম আলোর মঙ্গলবারের ক্রোড়পত্র নকশা ও ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড পন্ডসের আয়োজনে দুই দিনের ‘পন্ডস-নকশা বিয়ে উত্সব’-এর শেষ দিনের আয়োজন ছিল এটি।
সন্ধ্যার এই আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথিরা যখন আসন গ্রহণ করছিলেন, মিলনায়তনে তখন বাজছিল মুর্তজা কবির মুরাদের সানাই। অনুষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিল ব্যান্ড পার্টির বাদ্যিবাজনা দিয়ে। তারপরই ছিল ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’, ‘দাও গায়ে হলুদ পায়ে আলতা’, ‘লীলাবালি লীলাবালি’ গানগুলোর সঙ্গে ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীদের নাচ।
ব্যান্ড পার্টির বাজনার সঙ্গে নাটকীয়ভাবে মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অভিনয়শিল্পী আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। একপর্যায়ে তাঁরা ডেকে নেন প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীনকে। তিনি মঞ্চে আহ্বান করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, কানিজ আলমাস খান এবং কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদকে।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘আমাদের সময়ে বিয়ের এত আয়োজন ছিল না। বড় অসময়ে আমাদের জন্ম হয়েছিল, বিয়ে হয়েছিল। এই সময়ে যাঁদের বিয়ে হচ্ছে, তাঁদের অভিনন্দন।’ মঞ্চে আরও ডেকে নেওয়া হয় ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয় ও সদ্য বিবাহিত তারকা দম্পতি নাঈম-নাদিয়াকে।
অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরান বকর বলেন, ‘বাংলাদেশে শীতকাল মানেই চারদিকে বিয়ের আয়োজন। এই বিয়ে উৎসব দেখেও তা বোঝা গেল। বিয়ে উৎসবের এ আয়োজন দেশেই বিয়ের বাজার করতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে।’প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রথম আলোর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জয়। আমরা নানা ধরনের উত্সব করি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিয়ে উত্সব। আমাদের লক্ষ্য মানুষকে জানানো যে বিয়ের বাজার দেশেই হোক।’ তিনি মঞ্চে ডেকে নেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরী ও এই সময়ের অভিনেতা সজলকে। তাঁরা ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’ গানটির সঙ্গে মঞ্চে ফ্যাশন মডেলদের মতো হাঁটেন।
ফ্যাশন শোর মূল বিষয় ছিল বিয়ের সাজপোশাকে নানা রং। শুরুতেই ছিল কনের শাড়ির বিবর্তন তবে রংটা ছিল লাল; সঙ্গে বরের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এর পরেই একে একে আসে নানা রঙের পোশাকে বউ ও বর। এগুলোর ভেতরে ছিল বিয়ের পোশাক, বউভাতের সংবর্ধনার পোশাকে বর-কনেদের ক্যাটওয়াক।
ফ্যাশন শোর শেষ কিউতে অংশ নেন তারকারা। বর-বউয়ের সাজে মঞ্চে হাঁটেন ফেরদৌস, নিপুণ, শুভ, মিম, শখ, নিলয়, মাহি, ইমি, নিশো, পিয়া এবং মৌ।
তাঁদের সাজিয়েছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলো, এত বউ সাজাতে ক্লান্তি লাগে না? তিনি জানান, ‘বউয়ের সাজে নতুনত্ব এসেছে, রুচিতে এসেছে পরিবর্তন, সে জন্য ভালোই লাগে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল বিয়ের গান। কুমার বিশ্বজিৎ গেয়ে শোনান ‘চতুর্দোলায় চড়ে দেখ ওই বধূ যায়’ গানটি। সঙ্গে পারকাশনে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন আজরা মাহমুদ এবং সংগীতমিশ্রণে ছিলেন ডিজে রাহাত। মঞ্চ, বিয়ে উত্সবের প্রদর্শনী প্রাঙ্গণের সজ্জা এবং আলোক ব্যবস্থাপনা করেন মুকিমুল আনোয়ার ও ক্যান্ডেল লাইট।
গত সোমবার শুরু হওয়া দুই দিনের এ বিয়ে উৎসবে স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছিল বিয়ের নানারকম অনুষঙ্গ নির্মাতা ও সেবাদাতা দেশসেরা প্রতিষ্ঠান। গতকাল শেষ দিনে সকাল ১০টার সময় দেখা যায় দর্শকদের ভিড়। তাঁরা বিভিন্ন স্টলে গিয়ে বিয়ের নানারকম অনুষঙ্গ দেখেন। পাশাপাশি উৎসব মঞ্চে গান, বিয়ের গীত, কাওয়ালি, বউ সাজানো, র্যাফল ড্র, কথোপকথনসহ ছিল নানা আয়োজন। দর্শকেরা ভিড় জমান সেখানেও।
উৎসব উপলক্ষে পাঠকদের জন্য আয়োজন করা হয় ‘আমাদের ছবিই সেরা’ প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ইমতিয়াজ করিম নাইম ও খান জেরিন তাসনিম দম্পতি। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে আবদুর রহিম ও তাসনিম আনজুম এবং রাশেদ নিজাম ও নুর ঊন নাহার উইলি দম্পতি। চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নী, অভিনেতা ইরেশ যাকের এবং আলোকচিত্রী আবির আবদুল্লাহ। তাঁদের নম্বর ও পাঠকদের অনলাইন ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। দুই দিনের আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে সাংসদদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নতুন নীতিমালা অনুসারে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রে পাঠাবেন। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্থানীয় সরকার/পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রথম আলোকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনীত প্রার্থীদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সই করা চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে পৌরসভা নির্বাচনে সাংসদদের পরামর্শে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয় এবং সাংসদেরা তাঁদের সেই ক্ষমতা প্রয়োগও করেছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকেই ইউপির প্রার্থী বাছাইয়ে সাংসদদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পৌর নির্বাচনে অধিকাংশ স্থানে সাংসদেরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করেন। পরে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতায় নামেন অনেক সাংসদ। এসব সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় নতুন করে বিতর্ক এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সামনে জাতীয় নির্বাচন। ইউপির প্রার্থী বাছাইয়ে দলাদলি শুরু হলে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। সাংসদদের পক্ষে-বিপক্ষে বলয় তৈরি হবে। এ জন্য সাংসদদের বাদ রাখা হয়।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাংসদেরা এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কয়েকজন বলেছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাংসদদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে কেউ প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাননি। আবার কয়েকজন বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত সঠিক।
পাবনার সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক ওরফে টুকু বলেন, দল যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাতে তিনি একমত। এতে সাংসদদের ওপর চাপ কমে যাবে। আর আচরণবিধিতে নির্বাচনে সাংসদদের প্রচারণায় বাধানিষেধ আছে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে না রাখলে ভালোই হবে।
শেরপুরের সাংসদ ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, দল নিশ্চয় নানা দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অনেক সাংসদ জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা। তাঁরা তো থাকছেনই।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। গতকালের বৈঠকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভায় আবদুল লতিফ এবং ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভায় বাদল কৃষ্ণ দেবনাথকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ দুটি পৌরসভায় ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন।

সিরিয়ায় আইএসের প্রধান হ্যাকার সাইফুল হকের (সুজন) গড়া আইব্যাকস-এর ঢাকা কার্যালয়কে সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হতো। এই অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বিদেশ থেকে আসা ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকাও উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস-এ ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সাইফুল হক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে থাকা অবস্থায় বড় ধরনের অর্থ পাচারে যুক্ত ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যুক্ত ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ওই দেশ থেকে কয়েক লাখ পাউন্ড (ব্রিটিশ মুদ্রা) বাংলাদেশ হয়ে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত আইব্যাকস কার্যালয় এবং এর কর্মীদের ওপর নজর রাখতে শুরু করে। পরে ওই কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা সাইফুলের বাবা আবুল হাসনাত, ছোট ভাই হাসানুল হক ওরফে গালিব মাহমুদ, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও সাইফুলের শ্যালক তাজুল ইসলাম (শাকিল), হিসাবরক্ষক নাহিদ্দোজা মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ এনে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দিয়েছে পুলিশ (মামলা নং-২১, তারিখ- ০৯.১২.১৫)।
মামলায় বলা হয়, এঁরা সবাই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ ডিসেম্বর রাতে কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের পাশে বটতলা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় সাইফুল ও তাঁর বড় ভাই আতাউল হককেও (সবুজ) আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হাসনাত পুলিশকে বলেছেন, তাঁর দুই ছেলে সাইফুল হক ও আতাউল হক প্রবাসে থাকেন। তাঁরা বিদেশ থেকে মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আইব্যাকসের নাহিদ্দোজা মিয়ার কাছে অর্থ পাঠায় জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে থ্রিমা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
২০০৫ সালে সাইফুলের গড়া আইব্যাকস-এর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের বাইরে ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল। কার্ডিফে এর প্রধান কার্যালয়। ঢাকা ও জর্ডানে আলাদা অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত খাবারবিষয়ক বিভিন্ন পোর্টাল আর ভ্যাট-ট্যাক্স এবং জিপিএস-জিপিআরএস প্রযুক্তি সহায়ক অ্যাপস তৈরির কাজ করেছে।
সাইফুল ২০১৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পর তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী কার্ডিফে পুরো ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। আবদুস সামাদও একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। সিরিয়ায় বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার পরদিন আবদুস সামাদকে আটক করে যুক্তরাজ্য পুলিশ।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংগঠনগুলোর সমিতি বেসিসের সদস্যপদ (জি-২৮৭) নিয়ে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়েছে আইব্যাকস লিমিটেড। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন আতাউল হক। তিনি ছয়-সাত মাস আগে স্পেনে গেছেন বলে তাঁর ঢাকার বাসায় থাকা ছোট ভাই এহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেছেন।
সাইফুলের বাবা-ভাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত আইব্যাকস কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেখানকার একজন নিরাপত্তাকর্মী প্রথম আলোকে বলেন, গত মাসের শুরুর দিকে একদিন পুলিশ এসে তালা ভেঙে কার্যালয়টি তল্লাশি করে এবং কিছু সরঞ্জাম মামলার আলামত হিসেবে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ দরজায় একটি তালা মেরে যায়।
 আইব্যাকসের প্রতিষ্ঠাতা আইএসের প্রধান হ্যাকার সাইফুল হক
 যুক্তরাজ্য, ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রে আইব্যাকসের কার্যক্রম ছিল
 ১০ ডিসেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার দুদিন আগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন গ্রেপ্তার। ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা উদ্ধার

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী।
বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বাণীতে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় তাঁর গৃহীত শপথও বহাল থাকে না।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আদালতের নথি সরকারি দলিল। একজন বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর আদালতের নথি নিজের কাছে সংরক্ষণ, পর্যালোচনা বা রায় প্রস্তুত করা এবং তাতে দস্তখত করার অধিকার হারান। আশা করি বিচারকগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তিতে তাঁকে আইনমন্ত্রী, আইনজীবী ও বিচার অঙ্গন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করে বাণীতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকাসমূহে এই উপলক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উৎসাহব্যঞ্জক সংবাদ প্রকাশ এবং নিকট ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের সার্বিক কল্যাণে গৃহীতব্য বিষয়সমূহে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রত্যেককে এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো আমার দায়। তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের নিকট কৃতজ্ঞতা জানানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া, বিচারক হিসেবে কথা বলার পরিসরও সীমিত বিধায় এ বাণীর মাধ্যমে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এ প্রয়াস।’ তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। বিচার বিভাগ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। গণমাধ্যম সে বার্তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এ দেশের গণমাধ্যম সে দায়বদ্ধতা থেকে পূর্বাপর বিচার বিভাগ ও বিচারপ্রার্থী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে।
প্রধান বিচারপতি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৩৫৬টি। এ সময় বিগত বছরের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৯টি। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক মামলা নিষ্পত্তির হার ১৬২ শতাংশ। আর, হাইকোর্ট বিভাগে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৮০টি। অথচ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২২ হাজার ৪৭৭টি। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক মামলা নিষ্পত্তির হার ১৪৯ শতাংশ। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৩টি। ২০১৪ সালে একই সময়ে নিষ্পত্তির সংখ্যা ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫২টি। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক মামলা নিষ্পত্তির হার ১০৭ শতাংশ।
প্রধান বিচারপতি বাণীতে বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান সন্ধিক্ষণে বেঞ্চ ও বারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যাবশ্যক। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য পূর্বশর্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বারের ভূমিকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠে এসেই ম্যানেজার খালেদ মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে উইকেট দেখতে নেমে গেলেন চন্ডিকা হাথুরুসিহে। এ রকম দৃশ্য নতুন নয়। নতুন হলো কোচের মুঠোফোনের ক্যামেরায় উইকেটের ছবি তুলে রাখাটা। এই ছবি নাকি হাথুরুসিংহে দেখাবেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে। বলবেন, ‘এশিয়া কাপে কিন্তু আমার এ রকম উইকেট চাই...।’
খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ সিরিজ জয়ের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এ ম্যাচে জিতলে পরশুর শেষ ম্যাচটা হবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের আবহে সিরিজ জয় নিয়ে আলোচনা নেই। বাংলাদেশ কোচের মতো সবার দৃষ্টিই জিম্বাবুয়ে সিরিজ ছাপিয়ে চলে যাচ্ছে এশিয়া কাপ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওপর। কাল অনুশীলন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যা একটু প্রসঙ্গটা এল। সৌম্য সরকারের কথা শুনে মনে হলো, সিরিজ জয়ের চিন্তা থাকলেও তাঁদের মূল ভাবনা সেটা নয়, ‘সিরিজ জেতার জন্যই নামব, সে রকম কিছু না। সব সময় যে রকম জেতার জন্য নামি, কালও (আজ) সে রকম নামব।’
প্রথম দুই ম্যাচে একাদশ অপরিবর্তিত রেখে টিম কম্বিনেশন খোঁজার অনেক পরীক্ষা হয়েছে। আজ তো নাকি দলে বিশাল পরিবর্তন এনেই করা হবে তা! দল সূত্রের খবর সত্যি হলে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে সম্ভাব্য পরিবর্তন পাঁচটি। প্রথম দুই ম্যাচের দলে থাকা মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান ও আল আমিন শেষ দুই ম্যাচের দলে নেই বলে এটা হতেই পারে। কিন্তু সিরিজ জয়ের ম্যাচে যে আন্তর্জাতিক অভিষেকও হয়ে যেতে পারে চার ক্রিকেটারের!
মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় আরেক বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার, পেসার আল আমিনের জায়গায় মোহাম্মদ শহীদ, ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের জায়গায় মোসাদ্দেক হোসেন ও শুভাগত হোম চৌধুরীর জায়গায় বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নেওয়া হবে মুক্তার আলীকে—কাল রাত পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই নিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। এ ছাড়া সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তামিম ইকবালের না খেলাও একরকম চূড়ান্ত। তাঁর জায়গা নিয়ে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস শুরু করার কথা ইমরুল কায়েসের। এক ম্যাচে এত পরিবর্তন বাংলাদেশ দলে এর আগে কখনো হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না কেউ। তবে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই এক ম্যাচে চারের বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক হওয়ার রেকর্ড আছে।
এবারের জিম্বাবুয়ে সিরিজ পূর্বঘোষিতভাবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজ। প্রথাগত টিম কম্বিনেশন নিয়ে এর আগে টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাই সব ওলট-পালট করে দিয়ে একটা কিছু দাঁড় করাতে চাচ্ছেন হাথুরুসিংহে। এক দিন আগে এটা করার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। গত বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে হাতে ভালো বিকল্প খেলোয়াড় না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এবার সে ভুল করতে চাচ্ছেন না এই শ্রীলঙ্কান। মূল দলের পেছনেও পর্যাপ্ত ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড় রাখতেই একের পর এক নতুন খেলোয়াড়কে দেখা।
কোচের এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে দলের ভেতর একধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য এত ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড়ের দরকার কী, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। তা ছাড়া ‘ব্যাকআপ’ও কি সব নতুনদের মধ্য থেকেই হতে হবে? এসবই অবশ্য অন্দরমহলের আলোচনা। প্রকাশ্যে কোচের যুক্তিকে উড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি কেউ নিচ্ছেন না। কোচের পরিকল্পনা সফল হলে সেটা বুমেরাং হয়ে ফিরে আসার আশঙ্কা যেমন আছে, তেমনি সিরিজ চলাকালীন এ নিয়ে কথা বললে দলের ভেতর অস্থিরতাও বাড়বে। হাথুরুসিংহের পা থেকে বল কেড়ে না নিয়ে সবাই তাই তাঁর কারিকুরি দেখারই অপেক্ষায় এখন। অবশ্য কোচের কিছু চিন্তার সঙ্গে একমত পোষণ করছে নির্বাচক কমিটি। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও মনে করেন, ‘যেহেতু কোচ একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজগুলো করছেন, আমরাও তাঁকে সমর্থন করে যাচ্ছি। আশা করি এসবের ভালো ফলই পাবে দল।’
আজ সিরিজ জয়ের ম্যাচেই সত্যি হোক অধিনায়কের আশা। নইলে ‘বুমেরাং’ কিন্তু ছুটতে পারে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দিকেও।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে (১৬) একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় অবশেষে মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলাটি করেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ঘিওর সদর ইউনিয়নে একটি ভাড়া বাসায় থাকত ওই কিশোরীর পরিবার। উপজেলা সদরের এক বিত্তশালীর ছেলে (৩২) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ৯ জানুয়ারি এলাকার মাতবর গফুর মিয়ার বাড়িতে সালিস বৈঠক হয়। সালিসে কিশোরীর পরিবার ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের দাবি জানায়। বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় পরদিন ১০ জানুয়ারি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুর রহমানের বাড়িতে আবার সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে উভয় পক্ষের পরিবার ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান, ঘিওর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন, মাতবর গফুর মিয়া, বাবুল
হোসেন ও জিন্নাহ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
ছেলের পরিবার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সালিসে মেয়ের পরিবারকে উল্টো তিরস্কার করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ওই যুবকের পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়েটির পরিবার এ মীমাংসায় রাজি না থাকলেও সালিসকারীদের ভয়ে থানায় মামলা করতে পারেনি।
এ নিয়ে গত শনিবার প্রথম আলোতে ‘ধর্ষণের ঘটনা সালিসে মীমাংসার চেষ্টা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এরপর বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর পরিবারকে আইনগত সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) ও ব্র্যাক। পরে গত রোববার রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে পাঁচজনের নাম ও অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ওই কিশোরীর বাবা থানায় মামলা করেন।
তবে তদন্তের কারণে আসামিদের নাম উল্লেখ না করে ঘিওর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুনীল কুমার কর্মকার বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাতে পারবেন না। এই বিধান করে গতকাল ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আইন অনুসারে প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রতীক কী হবে, তা আগে থেকে জানা থাকায় তাঁরা প্রতীক নিয়ে আগাম প্রচারে নেমে যান। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হন। সে জন্য কমিশন প্রস্তাব করেছে, বরাদ্দের আগে প্রতীক নিয়ে প্রচারে নামা যাবে না। তবে প্রতীক ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে প্রচার চালানো যাবে।
বিদ্যমান আচরণবিধিতে বলা আছে, প্রতীক বরাদ্দ না হলেও ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে থেকে প্রচার শুরু করা যাবে। এই সুযোগ নিয়ে পৌরসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বরাদ্দের আগেই প্রতীক নিয়ে প্রচারে নেমে যান। এ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করলে কমিশন বরাদ্দের আগে প্রতীক নিয়ে প্রচার চালানো যাবে না বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির (ইউপি) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই এই বিধি যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রচারে নামতে পারবেন। তবে প্রচারে তাঁরা সরকারি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না।
এর আগে ইউপি নির্বাচন পরিচালনাবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত রোববার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই কমিশন বিধিমালা চূড়ান্ত করল। এর আগে পৌরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কমিশন তাই করেছিল। তখন কমিশন থেকে বলা হয় সময় না থাকায় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, পৌর নির্বাচনের বিধিমালার সঙ্গে ইউপির বিধিমালার বড় ধরনের কোনো পার্থক্য নেই। সদ্য শেষ হওয়া পৌর নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে কোনো দল আপত্তি জানায়নি। যে কারণে ইউপির বিধি নিয়েও তাদের আপত্তি আছে বলে মনে হয় না। কারও আপত্তি থাকলে সেটা তারা জানালে কমিশন বিবেচনায় নেবে।

Page 1 of 24

সম্পাদকঃ মীর আফরোজ জামান

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৪৯ সোনারগাঁও জনপথ, সেক্টরঃ ৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ।
ফোনঃ +৮৮-০২-৮৯৬৩৭৪৯, ফ্যাক্সঃ+৮৮-০২-৮৯৬৩৭৪৯
মোবাইলঃ ০১৭১৫৮১৯৩১৬
ইমেইল - banglarbanipratidin@gmail.com